সালাহউদ্দিন আহমেদের তথাকথিত “গুম”,

দাদা ভাই ツ

 



শেখ হাসিনা- পরবর্তী বাংলাদেশে নিজেদের কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগগুলোর অন্যতম ছিল। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কোন রাজনৈতিক শক্তিকে “বিকল্প নির্ভরযোগ্য অংশীদার” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে—এ প্রশ্নটি নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান ও স্বাধীন ভাবমূর্তির কারণে তাকে ঘিরে এমন কোনো কৌশল বাস্তবায়ন সহজ ছিল না।



এই প্রেক্ষাপটে সালাহউদ্দিন আহমেদের তথাকথিত “গুম”, পরবর্তীতে ভারতে তার অবস্থান এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে ঘিরে নানা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সামনে আসে। সমালোচকদের একাংশের মতে, পুরো ঘটনাপ্রবাহ ছিল বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ, যেখানে তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্র ও গোয়েন্দা কাঠামোর নীরব সমন্বয় থাকতে পারে।


প্রায় নয় বছরের নির্বাসন শেষে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সালাহউদ্দিন আহমেদের আকস্মিক প্রত্যাবর্তন এবং তথাকথিত “জুলাই বিপ্লব”-এর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন তার রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সূচনা হিসেবে দেখা হয়। দেশে ফেরার পর তিনি দ্রুত বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও নীতিনির্ধারক হিসেবে আবির্ভূত হন।


ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির ধারাবাহিক আপত্তি, পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং রাজপথে সংঘটিত বিভিন্ন বিক্ষোভকে ঘিরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এসব কর্মসূচির কিছু ছিল সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ, যেখানে দলীয় কৌশল ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় মহলের সমন্বয় কাজ করেছে।


পরবর্তীতে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিএনপির তীব্র আগ্রহ এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জুলাই আন্দোলনের ঘোষিত আদর্শ, গণভোটের দাবি এবং কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে যখন রাজপথে আরও সক্রিয় রাজনৈতিক অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল, তখন সালাহউদ্দিন আহমেদের “নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় আপোষের প্রয়োজন” সম্পর্কিত বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিস্তর বিতর্কের জন্ম দেয়।


এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত ও এনসিপির তুলনামূলক নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এই নীরবতা কোনো অঘোষিত সমঝোতার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তাদের মতে, যদি কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের আগেই বিএনপি ভিন্ন রাজনৈতিক সমঝোতার পথে অগ্রসর হয়, তবে এর রাজনৈতিক দায় কেবল বিএনপির নয়, নীরব সমর্থন জোগানো শক্তিগুলোর ওপরও বর্তাবে।

অপেক্ষা করুন...

আপনাকে কাঙ্ক্ষিত খবর জানতে ২০ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হবে।